
আমাদের সমাজে কিছু লোককে বলতে শুনা যায়, লেখাপড়া করে কে কি করছে? ওদের কাছে লেখাপড়া মানে অযথা সময় নষ্ট করা,তাই হরদম অধ্যায়নরত ছেলে মেয়ের পিছনে লেগে থাকে এবং কু বুদ্বিপূর্ণ কথা বলে তাদের কান ভারী করে। বলে এই দেখো অমুকের ছেলে পড়া লেখা না করেই কি আরামে দিন কাটাচ্ছে, টাকা পয়সার অভাব নাই। আর তুমি? তুমি শুধু শুধু নিজের সময় আর বাবার টাকা নষ্ট করছ।এর চেয়ে ভালো লেখাপড়া ছেড়ে কোন একটা কাজে লেগে যাও। আর পড়া লেখা করেই বা কি করবা? দেখো আমাদের গ্রামের নোমান মোল্লার ছেলে খুবাইব লেখাপড়া করে কি করছে? বেকার দিন পার করে, যেন নুন আনতে পান্তা ফুরাই। তাদের এসব কানপড়ার কারণে অকালেই ঝরে পড়ছে বহু শিক্ষার্থী এবং লেখাপড়া থেকে পিছিয়ে আছে একটা জনগোষ্ঠী। এহেন পরিস্থিতিতে আমার ওই রাজকন্যার কথা মনে পড়ছে যে তার বিবাহের ঘোষণা দিল। তবে তাকে বিবাহ করতে হলে একটি শর্ত আছে, শর্তটি হলো দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রশ্ন দুটি হল১,কিসের পেঁচ জটিল? ২,কিসের পেট বড়? প্রজাদের মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়ে গেল, রাজকন্যা বিবাহ করা কি চাট্রিখানিক কথা!! মাত্র দুটো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলেই রাজকন্যা হবে বউ,এ সুযোগ কি হাত ছাড়া করা যায়? রাষ্ট্রের দূর-দূরান্ত থেকে বহু যুবক আসতে লাগলো, কেউ আর রাজকন্যার মনমতো জওয়াব দিতে পারেনি, শেষ দিন আসলো দুই যুবক, ১,অশিক্ষিত জেলে, সে অনেক টাকা- পয়সার মালিক, একথায় টাকার কুমির, দেখতেও মাশাল্লাহ!! ২,শিক্ষিত বেকার যুবক, যার কষ্টই একান্ত সাথী, একথায় কষ্টমানব। দেখতেও সেই না। দুজনেই রাজকন্যার দরবারে হাজির হল, রাজকন্যা প্রথমেই জেলে কে শুধালো, জেলের উত্তর, ১,বাইম মাছের পেঁচ জটিল, ২,বয়াল মাছের পেট বড়। এরপর শিক্ষিত যুবক কে, তার উত্তর ১,কলমের পেঁচ জটিল , ২,রাজার পেট বড়। এবার উভয়ের উত্তরের ব্যাখ্যা চাইল,জেলের ব্যাখ্যাঃ মহারাণী মনে হরুইন বাইম মাছডা ধরনের হরে পুরা হাতটা হেচায়ালা। আর বল মাছের কথা কি কইমু? এড্ডে তো কয়েকটা কুডি,লাডি একসাথে গিল্লেলা। প্রিয় পাঠক হাসতাছেন!! " নো স্মেল , সো থিং
আরো সুন্দর সুন্দর লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন
শিক্ষিত যুবকের ব্যাখ্যাঃ শাহজাদী নামাদার! কলমের পেঁচ এইজন্য জটিল যে, কলমের পেঁচ খুলতে খুব মুশকিল, ধরেন আপনার আব্বু মানে বাদশা নামাদারের একটা জমি যার দাগ সংখা বিশ, তবে দলিল করার সময় সংখা উঠেছে আঠারো, এখন এই পেঁচ খুলতে খুব হার্ট হয়ে পড়বে।শাহজাদী নামাদার এবার আসেন রাজার পেট বড় কেন বললাম, কারণ রাজা একটি রাজ্যে জয় করার পরে আরেকটি রাজ্য জয় করার আকাংখা করে, গোটা জাহান জয় করেও তৃপ্তি মিটেনা। চাই আরেক জাহান জয় করতে। আশা করি বুঝতে পারছেন!! রাজকন্যার সমঝ হয়ে গেলো। জেলেকে বলল রাস্তা মাপো। আর হাজবেন্ট হিসেবে ও-ই শিক্ষিত যুবককে ঘোষণা দিল। প্রিয় পাঠক! শিক্ষা যদি মূল্যহীন আর অযথা সময় নষ্ট করা হতো তাহলে শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হয় কি করে? গুনীরা বলে থাকে, "যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত,, "আমাকে একটা শিক্ষিত মা দাও, আমি একটা শিক্ষিত জাতি দেব,, আর বাস্তবতাও এটাই দেখি, আজ গোটা দুনিয়ায় যে সব জাতিকে উন্নত জাতি হিসেবে জানি, তারা এই শিক্ষার মাধ্যমেই উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে। তাই আসুন আমারা সবাই শিক্ষার প্রতি মনোযোগী হয়, আর ওই সব লোকদের থেকে দূরে থাকি যারা শিক্ষাকে মূল্যহীন আর অযথা সময় নষ্ট করা মনে করে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝশক্তি দান করুন।

সুন্দর প্রকাশ
ReplyDelete